Published : 28 Mar 2026, 07:07 PM
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের চালানো এক হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা স্থানীয় সময় শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। গত এক মাসে ইরানের সাথে চলা এই সংঘাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সম্মিলিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্তত দুটি ‘কেসি-১৩৫’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উড়োজাহাজগুলো সাধারণত যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আহত সেনারা ঘাঁটির একটি ভবনে ছিলেন, যেখানে হামলাটি চালানো হয়।
হামলায় বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, ঘাঁটিতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন আঘাত হেনেছিল। এর আগে ১৩ মার্চ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়নি এবং মেরামতের কাজ চলছে। একই দিন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে, যেখানে উড়োজাহাজের ছয়জন ক্রু নিহত হন। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে জরুরি অবতরণ করে। সেন্টকমের দাবি, উড়োজাহাজটি কোনো শত্রু বা মিত্রপক্ষের গুলিতে বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারাই উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে।
বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার মার্কিন বিমানবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী সামরিক মিশনে ব্যবহৃত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। এটি আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। এই উড়োজাহাজের কারণে সামরিক বিমানগুলো অবতরণ না করেই দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকতে পারে এবং তাদের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পায়। টাইমস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই উড়োজাহাজ মার্কিন বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ১৯৯৮ সালের হিসাবে, প্রতিটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজ তৈরি করতে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। বোয়িং কোম্পানি এই উড়োজাহাজ তৈরি করে এবং বর্তমানে নতুন করে তৈরি না করে এগুলোকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে, যার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।।
ইরানের হাতে নিহত হলে করণীয় কী, ট্রাম্পের নির্দেশাবলী ফাঁস করলেন